ধাতু ক্ষয় রোধের উপায়

ধাতু ক্ষয় রোধের উপায়
ধাতু ক্ষয় রোধের উপায়
ধাতু ক্ষয় রোধের উপায়
স্পার্মাটোরিয়া (Spermatorrhoea.) কি?
স্পার্মাটোরিয়াঃ 

বাংলা অর্থ-অসাড়ে শুক্র ক্ষরণ এবং এটির অন্য নাম-শুক্রমেহ।

স্বপ্ন অথবা জাগ্রতাবস্থায়, বাহ্যের সময় কোঁথ দেওয়ার সময় প্রস্রাবের পূর্ব্বে কিম্বা পরে অথবা যে কোন সময়ে অসাড়ে ধাতু স্খলন হলে তাকে স্পার্মাটোরিয়া বলে।

রাতে বা দিনে স্বপ্নদোষ হওয়াও স্পার্মাটোরিয়া পীড়ার অন্তর্ভুক্ত।

যাই হোক এই পীড়া আজ কাল প্রায় অধিকাংশ লোকের সাংবাই পাওয়া যায় এবং এতে ধীরে ধীরে মানসিক শক্তি হ্রাস হয়।

কারনঃ

১। যৌবনাবস্থায় অপরিমিত ইন্দ্রিয় চালনা।

২। অতিরিক্ত স্ত্রী-সহবাস।

৩। হস্তমৈথুন।

৪। স্বপ্নদোষ হওয়া ইত্যাদি কারণে বীর্য্য তরল ও বীর্য্য নষ্ট হলে জীবনীশক্তির দুর্বলতাবশতঃ স্নায়ুমন্ডলীও ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

তখন বীর্যধারণ শক্তি একেবারে নষ্ট হয়ে যায় এবং সামান্যমাত্র উত্তেজনাতেই- যেমনঃ সেটা নিদ্রিত অবস্থায় হোক আর জাগ্রত অবস্থায় হোক। সব অবস্থাতেই অসাড়ে শুক্র পতন হয়।

★★ অন্যান্য কারনঃ

১। বিভিন্ন ক্ষয়কারক পীড়া। যেমনঃ

ক) ডিস্পেপসিয়া।

খ) কোষ্ঠবদ্ধ।

গ) অন্ত্রে ক্রিমি

ঘ) শারীরিক দৌর্বল্য ইত্যাদি।

২। মুত্রনালীর প্রমেহ পীড়ার কারনেও এই স্পার্ম্মাটোরিয়া পীড়া দেখা দেয়।

লক্ষণসমূহঃ

১। প্রথমে পীড়া শুরু হওয়ার পূর্ব্বে কিছুদিন দিনে বা রাতে ঘুমন্তাবস্থায় স্বপ্নে রেতঃপাত হয়।

২। তাতে ধাতু তরল হয় এবং ক্রমশঃ অসাড়ে ধাতুস্খলন হতে থাকে।

৩। অনেক সময় স্ত্রীলোক দর্শন অথবা উহার বিষয় চিন্তা করলে কিম্বা কোন নভেল নাটকাদি পাঠ করলেই ধাতু স্খলন হতে পারে।

৪। প্রস্রাব অথবা মলত্যাগকালে কোঁথ দেওয়ার সময় লালার মত হড়হড়ে ধাতু নির্গত হওয়া।

৫। ক্রমশঃ রোগীর শরীর শীর্ণ হতে থাকে।

৬। মানসিক অবসাদগ্রস্ত ও উদ্যমতা ভেঙ্গে যাওয়া।

৭। কোনও কাজে উৎসাহ থাকে না।

৮। বুক ধড়ফড় করে।

৯। স্মরণশক্তির হ্রাস হয়।

১০। সর্ব্বদাই অস্থিরতাভাব।

১১। কোনও বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারে না।

১২। চোখের কোণে কালো দাগ পড়ে।

১৩। মুখ চোখের জ্যোতি হীন হয়।

১৪। শরীরের চর্ম রুক্ষ্ম ও মেজাজ খিটখিটে হয়।

১৫। অকালে চুল পাকে।

১৬। অজীর্ণ, অম্লের পীড়া, অর্শ, উদরাময় অথবা কোষ্ঠবদ্ধ দেখা দেয়।

★★ মানসিক লক্ষনঃ

১। রোগীর মনের তেজ ক্রমশঃ এত ক্ষীণ হয় যে, কারও মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে সাহস করে না।

২। সর্ব্বদা মনে ভয় আসে, বুক ধড়ফড় করে, মস্তিষ্কের পীড়া হয়, মাথা ঘোরে, বেশিসময় কথা বলতে পারে না।

৩। জীবনে হতাশা হয়।

৪। একা নির্জনে থাকতে ভালবাসে।

৫। বিলম্বে গোঁফ দাড়ি উঠে।

৬। যৌবনে কেউ কেউ ধ্বজভঙ্গ হয়ে পড়ে কিম্বা কোনও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়।

★★ চিকিৎসাঃ
★★ হোমিও ঔষধঃ
1. এসিড-ফস। পুরাতন পীড়ায় এটি উপকারী।
লক্ষনঃ

১। শরীর দুর্ব্বল হয়ে পড়ে।

২। লিঙ্গ শিথিল ও ক্ষুদ্র হয়ে পড়া।

৩। লিঙ্গোদ্রেক হয়েও অতি অল্প সময়ে রেতঃস্খলন, অবসাদগ্রস্ত।

শক্তিঃ ৩০ শক্তি। ২ ফোটা করে ৩/৪ দিন ৩ বার সেবন। উপকার না হইলে-২০০ শক্তি। ১০/১৫ দিন অন্তর এর এক মাত্রা সেব্য।

2. ডিজিটেলিস।
লক্ষনঃ

১। কামোত্তেজক স্বপ্ন দেখে বা স্বপ্ন বিহীন স্বপ্নদোষ।

২। অজ্ঞাতসারে ধাতুস্খলন, দুর্ব্বলতা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি।

শক্তিঃ 3X। একটু পানিসহ প্রতিদিন সকালে একমাত্রা সেব্য।

3. ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া।
লক্ষণঃ

১। অতিরিক্ত শুক্রক্ষয়ের ফলে শরীর শীর্ণ ও দুর্ব্বল হওয়া।

২। চোখের কোণে কালো দাগ হওয়া।

৩। মেজাজ খিটখিটে হওয়া।

৪। ভীত, উৎসাহ কমে যাওয়া।

৫৷ সবসময় কামবিষয় নিয়ে চিন্তা করা।

★★ পীড়া অধিক পুরাতন এবং কঠিন ভাব ধারণ করিলে এটি প্রযোজ্য।

শক্তিঃ 6X বা 30 বা ১০০০ শক্তি সকালে ১ মাত্রা করে সেব্য।

4. কোনিয়ম।
লক্ষণঃ

১। অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়সেব্য ও হস্তমৈথুন ইত্যাদি কারণে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হলে এবং পীড়া চরম অবস্থায় উপনীত হয়ে বৃদ্ধের মত অবস্থা ঘটলে এটিতে উপকার হবে।

শক্তিঃ 6X শক্তি হতে ৩০ শক্তি উপকার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ২/১ মাত্রা সেব্য।

5. লাইকোপোডিয়ম।
লক্ষণঃ

১। লিঙ্গের অত্যন্ত দুর্ব্বলতা।

২। লিঙ্গ শিথিল।

৩। লিঙ্গোদ্রেক না হয়ে অথবা সামান্য মাত্র উত্থান হয়েই শুক্রস্খলন হয়।

৪। বৃদ্ধদের এবং যাহাদের যকৃতের দোষ আছে তাদের পক্ষে এটি অধিক উপকারী।

শক্তিঃ ৩০। প্রতিদিন সকালে এক মাত্রা উপকার না হওয়া পর্যন্ত সেব্য।

6. নক্স-ভমিকা।
লক্ষণঃ

১। অল্প বয়সে হস্তমৈথুন করে পীড়া, মেজাজ খিটখিটে।

২। যে সমস্ত লোক বসে দিন অতিবাহিত করে, অলস।

৩। যাদের যকৃত ভালভাবে কাজ করে না অর্থাৎ বদহজম লেগেই থাকে, যারা মদ্যাদি পান করে।

৪। লিঙ্গোদগম হয়ে আলিঙ্গনের সময় নিস্তেজ হয়।

৫। শেষ রাত্রে স্বপ্নদোষ হয়, তাদের পীড়ায় এটি অধিক উপকারী।

শক্তিঃ 30।

★★ অন্যান্য ঔষধঃ

১। বাহ্যের সময় বেগ দেওয়ার সময় হড়হড়ে সাদারঙের শুক্রক্ষরণে-স্যালিক্স নায়গ্রা, সেলিনিয়ম।

২। সাইলিসিয়া-১০০০ শক্তির ১ মাত্রা ১৫ দিন বা ১ মাস অন্তর ২/৩ মাস সেব্য।

৩। বিউফো-রাণা-৩০ বা ২০০ শক্তি, এই পীড়ার একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ। এটির ৩০ শক্তি প্রতিদিন সকালে ১ মাত্রা করে সেব্য।

৪। টিটানিয়ম-৩০, সঙ্গমের সময় খুব শীঘ্র শীঘ্র শুক্রস্খলন হলে প্রযোজ্য।

৫। বেলিস-পিরেনিস হস্তমৈথুনের কুফলে পীড়ার উৎপত্তি।

➤ আনুষঙ্গিক চিকিৎসাঃ

★★ এই পীড়ায় কেবলমাত্র ঔষধ সেবনের উপর নির্ভর করলে উপকার হবে না।

★★ মেনে চলতে হবে যেসব বিষয়ঃ

১। হস্তমৈথুন, অতিরিক্ত স্ত্রী-সহবাস, বিলাসিতা, কুৎসিত নাটক নভেল পাঠ থেকে বিরত থাকা।

২। উত্তেজক দ্রব্য, যেমনঃ মাংস, ডিম, গরম মশলা ইত্যাদি অতিরিক্ত আহার না করা।

৩। কুচিন্তা, কুসংসর্গ অধিক নিদ্রা এ সমস্ত একেবারেই ত্যাগ করতে হবে।

৪। বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করা।

৫। সহ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করা।

৬। ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা।

৭। লঘু বলকারক খাবার, যেমনঃ পথ্য, পাকা ফল, বাদাম, পেস্তা, কিসমিস, খোরমা-খেজুর, কাঁচা সাগু, টাটকা শাক সবজি, তরকারী ও ক্ষুদ্র মাছ আহার করা।

৮। দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া। ঘোল পান করা।

৯। নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা।

১০। ঘুমানোর আগে অল্প ঠান্ড পানি পান করা ও ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ-হাত-পা ধোয়া।

১১। সকালে কিছুসময় খোলা বাতাসে বেড়ানো ইত্যাদি নিয়মগুলি পালন করলে অবশ্যই দ্রুত ফল পাওয়া যাবে।

কিসমিসের উপকারিতা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top