কোন রোগের কি উপসর্গে ব্রায়োনিয়া প্রযোজ্য

১। বেদনাঃ

  • সিরাস মেমব্রেণের প্রদাহ, প্লুরিসি, মেনিনজাইটীস, পেরিটোনাইটীস পেরিকার্ডাইটীস ইত্যাদি পীড়ায় ব্রায়োনিয়া উপকারী।

২। বাত ও কোমরে বাতঃ

  • গাঁটের বিশেষতঃ যেখানে বড় বড় গাঁট আছে সেই স্থানের বেদনায় ও প্রদাহে এবং কোমরের বাতে-ব্রায়োনিয়া উপকারী।
  • এটির বেদনা অনেক সময় স্থান পরিবর্তন করে, একস্থান হতে অন্যস্থানে চলে বেড়ায়, প্রথমে যে স্থান আক্রান্ত হয়; সেস্থান কিছুমাত্র বেদনা থাকে না কিম্বা প্রথমে আক্রান্তস্থানে অল্প বিস্তর কিছু বেদনা থাকে ও নূতন আক্রান্তস্থানে তীব্র বেদনা হয়,।
  • আক্রান্তস্থান ফোলে, গরম ও লালবর্ণ হয়, চক্চক্ করে, সামান্যমাত্র নড়াচড়া করলেই যন্ত্রণা বাড়ে।
  • হাঁটু শক্ত ও বেদনাযুক্ত।
  • গাঁট ফোলে, গাঁট গরম ও লালবর্ণ হয়, ছিঁড়েফেলার মত বেদনা-একটু মাত্র নড়াচড়া করলেই বেদনার বৃদ্ধি।
  • পায়ের তলা ফোলে ও গরম হয়। গরম ফোমেন্টসন, পুলটীস বা তাপ দিলে বেদনার অনেকটা উপশম থাকে।

নূতন হোক, পুরাতন হোক, গাঁটে হোক, মাংসলস্থানে হোক-বাতে যেখানে ব্রায়োনিয়ার প্রয়োজন, সেখানে অন্যান্য উপসর্গের সাথে প্রচুর পরিমাণে ঘাম থাকে।

৩। জ্বরঃ

  • সর্দি, বাতিক, ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেমিটেন্ট-টাইফয়েড, নব-জ্বর ইত্যাদি সর্ব্বপ্রকার জ্বরেই লক্ষণ মিলিলে-ব্রায়োনিয়া প্রয়োগ করতে পারা যায়।
  • পিপাসা, জিহবার ময়লা, মুখে তিক্ত আস্বাদ, অল্প-বিস্তর ঘাম (অন্ততঃ গা ভিজা-ভিজামত)।
  • চুপ করে পড়ে থাকা, মোটামুটি এই কয়টা লক্ষণের উপর দৃষ্টি রাখতে হবে।
  • ব্রায়োনিয়ার জিহবা জ্বরে শুষ্ক ও খসখসে থাকে, তার সাথে পেটের দোষ থাকলে (gastric disorder) – জিহবা ভারী, সাদা কিম্বা হলদে ময়লাযুক্ত হয়; প্রবল পিপাসা।

৪। টাইফয়েড-জ্বরঃ

  • টাইফয়েড-জ্বর রোগ লক্ষণ-নড়লে-চড়লে বৃদ্ধি হয়, এই পীড়াতেও সেরূপ নড়লে চড়লে সমস্ত কষ্টের বৃদ্ধি হয়, তাই রোগী নড়তে চায় না, ভয় পায়।
  • গায়ে অত্যন্ত বেদনা থাকে।
  • নাক দিয়া রক্ত পড়ে।
  • তাতে মাথার বেদনার একটু উপশম থাকে।
  • ঠোঁট ফাটে, ঠোঁট দুইটি নাড়ে-ঠিক যেন কিছু চিবাচ্ছে; (প্রলাপ- মৃদু, রোগী নিজের দৈনিক ব্যবসায়ের বা কার্যাবলীর সম্বন্ধে প্রলাপ বকে; বিকার রোগী বাড়ী যাবার কথা বলে, সে মনে করে যেন অন্যস্থানে রয়েছে।

৫। সবিরাম জ্বরঃ

  • জ্বর আসার সময়ের কোনো স্থিরতা নেই।
  • জ্বরের পূর্ব্বাবস্থাঃ মাথাব্যথা, হাত-পা-গা সর্ব্বশরীর কামড়ায়, অত্যন্ত পিপাসা।
  • শীতাবস্থায়ঃ পিপাসা, শুষ্ক কাশি, বুকে ছুঁচফোটানো বেদনা, রোগী চুপ করে পড়ে থাকে।
  • উত্তাপাবস্থায়ঃ প্রবল পিপাসা, অন্তরে অত্যন্ত দাহ, বালিস হতে মাথা তুলতে পারে না, কারণ মাথা তুললেই গা-বমি-বমি, মাথাঘোরা ও মাথাব্যতথা বাড়ে।
  • ঘর্মাবস্থায়ঃ প্রচুর ঘাম দেয়, মুখ তিক্ত ও শুষ্ক।
  • জ্বরত্যাগ অবস্থায়ঃ শরীরের সব স্থানে বেদনা, ঐ বেদনা টিপলে বা চাপলে উপশম হয়, বমি করে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top