হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস একটি সাধারণ ভাইরাস যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ত্বক এবং মিউকাস মেমব্রেনে সংক্রমণ ঘটায়। এটি সাধারণত যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে, যেমন জরায়ুর ক্যান্সার, ভাজাইনার ক্যান্সার, পেনাইল ক্যান্সার এবং অ্যানাল ক্যান্সার।
এইচপিভি টিকা কি?
এইচপিভি টিকা হলো এমন একটি প্রতিরোধক যা এইচপিভি ভাইরাস থেকে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এই টিকা শরীরে এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এটি মূলত ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে জরায়ুর ক্যান্সারের জন্য, যা নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যান্সার।
কেনো এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়?
এইচপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবারই থাকে, বিশেষ করে যৌন মিলনের সময়। তবে ভাইরাসটি সহজে সংক্রমিত হয় এবং অধিকাংশ মানুষ তাদের জীবদ্দশায় একবার হলেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। যদিও অনেক ক্ষেত্রে এইচপিভি সংক্রমণ নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ক্যান্সার বা অন্যান্য গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। তাই এই ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়।
কারা এইচপিভি টিকা পায়?
বিশেষত কিশোর-কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হয়, কারণ তাদের শরীরে যৌন কার্যকলাপ শুরুর আগেই টিকা গ্রহণ করা সবচেয়ে কার্যকর। সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের এই টিকা দেওয়া হয়, তবে ৯ বছর বয়সেও দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও, ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত যে কেউ এই টিকা নিতে পারেন যদি তারা ইতিমধ্যে টিকা না নিয়ে থাকেন। ২৭-৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরাও এইচপিভি টিকা নিতে পারেন, তবে তাদের জন্য টিকাটি কম কার্যকর হতে পারে কারণ এই বয়সে অনেকে ইতিমধ্যেই এইচপিভি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।
এইচপিভি টিকার সুবিধা:
- জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
- ভাজাইনা, পেনাইল এবং অ্যানাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
- যৌন সম্পর্কিত সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
এইচপিভি টিকার নিরাপত্তা:
এইচপিভি টিকা অনেক গবেষণা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি একটি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত টিকা এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত মৃদু, যেমন টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা, মাথাব্যথা বা জ্বর।
এইচপিভি টিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক যা কিশোর বয়স থেকেই নেওয়া উচিত। এটি শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধে নয়, বরং যৌন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি এইচপিভি টিকা গ্রহণ করা ভবিষ্যতে অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে সহায়তা করবে।
এইচপিভি টিকা কে এবং কোন দেশ আবিষ্কার করে?
এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকার আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে জরায়ুর ক্যান্সারসহ অন্যান্য এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
এইচপিভি টিকার পেছনে মূল গবেষণা এবং আবিষ্কারের কৃতিত্ব অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী ইয়ান ফ্রেজার (Ian Frazer) এবং তার সহযোগী জার্মান বিজ্ঞানী হ্যারাল্ড জুর হাউসেন (Harald zur Hausen)-এর। হ্যারাল্ড জুর হাউসেন প্রথম প্রমাণ করেন যে কিছু প্রকারের এইচপিভি জরায়ুর ক্যান্সারের জন্য দায়ী। তার এই গবেষণার ভিত্তিতেই ইয়ান ফ্রেজার এবং তার দল এইচপিভি টিকা তৈরি করতে সক্ষম হন।
কোন দেশ এইচপিভি টিকা আবিষ্কার করে?
এইচপিভি টিকার মূল গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অস্ট্রেলিয়া-তে পরিচালিত হয়। ২০০৬ সালে, প্রথম কার্যকর এইচপিভি টিকা বাজারে আসে, যা তখনকার সময় গার্ডাসিল (Gardasil) নামে পরিচিত হয়। এই টিকাটি ফ্রেজার এবং তার গবেষণা দলের নেতৃত্বে তৈরি করা হয়েছিল।
এইচপিভি টিকার আবিষ্কার হ্যারাল্ড জুর হাউসেনের এইচপিভি ভাইরাস এবং ক্যান্সারের সম্পর্কের গবেষণার ভিত্তিতে ইয়ান ফ্রেজারের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে এবং পরিশ্রমের ফলেই ২০০৬ সালে এই টিকা বাজারে আসে, যা বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছে।
এইচপিভি টিকা: কবে প্রথম এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু হয়?
এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকা ২০০৬ সালে প্রথম বাজারে আসে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে এটি একটি বিপ্লব ঘটায়। এর মাধ্যমে এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যান্সার, বিশেষত জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২০০৬ সালের জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এইচপিভি টিকা গার্ডাসিল (Gardasil) নামে অনুমোদিত হয়। একই বছরের মধ্যে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনগণের জন্য টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। এই টিকার মাধ্যমে ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে প্রথম টিকাদান শুরু হয়।
কোন দেশে প্রথম দেওয়া শুরু হয়?
এইচপিভি টিকা দেওয়ার কর্মসূচি প্রথম শুরু হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) ২০০৬ সালে গার্ডাসিল টিকাটিকে অনুমোদন দেয়। এরপর এটি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা সহ অন্যান্য দেশেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং টিকা কার্যক্রম শুরু হয়।
এইচপিভি টিকা প্রথম দেওয়া শুরু হয় ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দেশেও এই টিকা চালু হয় এবং বিশ্বব্যাপী কিশোর-কিশোরী ও যুবকদের মধ্যে এর প্রয়োগ বৃদ্ধি পায়।
এইচপিভি টিকা: বিশ্বের কতটি দেশ গ্রহণ করেছে?
এইচপিভি টিকা ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জরায়ুর ক্যান্সার এবং অন্যান্য এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যান্সার প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশ এই টিকা তাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কতটি দেশ এইচপিভি টিকা গ্রহণ করেছে?
২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১২৫টিরও বেশি দেশ এইচপিভি টিকা তাদের টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোও রয়েছে। WHO (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এই টিকার প্রসারে বড় ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে ক্যান্সার প্রতিরোধে এই টিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এইচপিভি টিকার প্রসার:
প্রথমে উন্নত দেশগুলো, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ইত্যাদি দেশগুলোতে এইচপিভি টিকা চালু হয়। পরে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের অনেক দেশও এই টিকা গ্রহণ করে।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২৫টিরও বেশি দেশ এইচপিভি টিকা গ্রহণ করেছে, যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি বড় পদক্ষেপ। এই টিকার বিশ্বব্যাপী প্রসার ভবিষ্যতে জরায়ুর ক্যান্সারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করছে।
এইচপিভি টিকা বিশ্বের কোন কোন দেশ গ্রহন করেছে
এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকার গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়েছে, এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। এই কারণে অনেক দেশ এই টিকাকে তাদের টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এইচপিভি টিকা গ্রহণ করা প্রধান দেশগুলো:
১. যুক্তরাষ্ট্র: ২০০৬ সালে প্রথম এইচপিভি টিকা চালু হয়। এখানকার কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি নিয়মিতভাবে দেওয়া হয়।
২. অস্ট্রেলিয়া: এইচপিভি টিকার আবিষ্কারের দেশ এবং ২০০৭ সাল থেকে দেশটির সরকার এটি বিনামূল্যে সরবরাহ করে।
৩. যুক্তরাজ্য: ২০০৮ সাল থেকে এইচপিভি টিকা কিশোরী মেয়েদের এবং পরে ছেলেদের জন্যও দেওয়া শুরু হয়।
৪. কানাডা: ২০০৭ সাল থেকে এইচপিভি টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ছেলেমেয়ে উভয়কেই টিকা দেওয়া হয়।
৫. জার্মানি: ২০০৭ সালে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়।
- ফ্রান্স: ২০০৭ সালে শুরু হয়ে বর্তমানে এটি ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য দেওয়া হয়।
- জাপান: ২০১০ সালে এইচপিভি টিকা চালু হলেও পরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল, তবে ২০২১ সালে আবার পুনরায় চালু করা হয়।
- ব্রাজিল: ২০১৪ সাল থেকে দেশটি এইচপিভি টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা শুরু করে।
- আর্জেন্টিনা: ২০১১ সাল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়, যা মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে।
- ভারত: ২০২২ সালে ভারত সরকার ঘোষণা করে যে, তারা জাতীয়ভাবে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে, যা কিশোরী মেয়েদের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রযোজ্য।
অন্যান্য দেশ:
অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ, বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (GAVI)-এর সহায়তায় এই টিকা গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- রুয়ান্ডা: প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ২০১১ সালে এইচপিভি টিকা কার্যক্রম শুরু করে।
- ভুটান: ২০১০ সাল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
- মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে, এবং আরও অনেক দেশও এইচপিভি টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এইচপিভি টিকা বর্তমানে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ১২৫টিরও বেশি দেশ এই টিকাদান কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
এইচপিভি টিকা কারা নিতে পারবেন?
এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকা নেওয়া সবার জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা, বিশেষ করে যৌন সম্পর্কিত সংক্রমণ এবং এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা পেতে। তবে কিছু নির্দিষ্ট বয়স এবং শর্তের ভিত্তিতে এই টিকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
সাধারণত, কিশোর-কিশোরী এবং যুবক-যুবতী এইচপিভি টিকা নেওয়ার উপযুক্ত প্রার্থী। নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:
১. কিশোর-কিশোরী (৯-২৬ বছর বয়সী):
- ১১-১২ বছর বয়সে এইচপিভি টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, কারণ এটি যৌন কার্যকলাপ শুরুর আগেই দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর।
- এইচপিভি টিকা দেওয়ার বয়স সীমা শুরু হয় ৯ বছর বয়স থেকে।
- ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোর-কিশোরী, যুবক ও যুবতীরা এই টিকা নিতে পারেন যদি তারা আগে টিকা না নিয়ে থাকেন।
২. ছেলেমেয়েরা উভয়ই:
- এইচপিভি টিকা কেবল মেয়েদের জন্য নয়, ছেলেদেরও দেওয়া হয়। কারণ, এইচপিভি ভাইরাস থেকে ছেলেদেরও পেনাইল ক্যান্সার এবং অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি থাকে।
- ২০০৬ সালের পর থেকে অনেক দেশেই ছেলেদেরও এইচপিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে।
৩. ২৭-৪৫ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক:
- ২৭-৪৫ বছর বয়সীদের জন্যও এইচপিভি টিকা অনুমোদিত হয়েছে। যারা যৌন সম্পর্কিত সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন বা ইতোমধ্যে এইচপিভি সংক্রমণ হয়নি, তারা টিকা নিতে পারেন।
- তবে এই বয়সের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে এইচপিভি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের জন্য টিকা কম কার্যকর হতে পারে।
বিশেষ ক্ষেত্রে:
- এইচআইভি বা অন্যান্য রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিরা (যেমন যারা অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট গ্রহণ করেছেন) এইচপিভি টিকা নিতে পারেন, কারণ তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন।
- গর্ভবতী নারীদের জন্য এই টিকা সাধারণত সুপারিশ করা হয় না, তবে গর্ভাবস্থার পরে নেওয়া যেতে পারে।
কারা টিকা নিতে পারবেন না?
- যাদের পূর্বে এইচপিভি টিকার কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, তাদের পুনরায় এই টিকা নেওয়া উচিত নয়।
- গর্ভবতী মহিলাদের এই টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৯-২৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়ে উভয়ই এইচপিভি টিকার জন্য প্রধান উপযুক্ত প্রার্থী। এছাড়াও, ২৭-৪৫ বছর বয়সের ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে টিকা নিতে পারেন। যৌন কার্যকলাপ শুরুর আগেই টিকা নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর, কারণ এটি ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।
বাংলাদেশে এইচপিভি টিকা কবে চালু হয়?
বাংলাদেশে জরায়ুর ক্যান্সার নারীদের মধ্যে একটি অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা, এবং এর প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এইচপিভি টিকা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এইচপিভি টিকা চালু করার ঘোষণা দেয়। প্রথম পর্যায়ে ১০-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এই টিকা প্রদান শুরু হয়। সরকার এই উদ্যোগটি মূলত দেশের কিশোরী মেয়েদের জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে চালু করেছে।
এইচপিভি টিকার প্রয়োগ:
- শুরুতে দেশের কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই টিকা দেওয়া শুরু হয়।
- ২০২৩ সালের মধ্যে সরকার সারা দেশে এই টিকা প্রদান করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
- টিকাটি প্রধানত সরকারি স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সব কিশোরী মেয়ে সহজে এই টিকা পেতে পারে।
বাংলাদেশে ২০২৩ সাল থেকে এইচপিভি টিকা জাতীয়ভাবে চালু হয়েছে, যা মূলত ১০-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাংলাদেশে এইচপিভি টিকা: প্রথম কোন সংস্থা চালু করে?
বাংলাদেশে জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই টিকা চালুর পেছনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে।
বাংলাদেশে এইচপিভি টিকা চালুর পেছনে মূল সংস্থা:
বাংলাদেশে এইচপিভি টিকা প্রথম চালু করে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, যা ইপিআই (Expanded Program on Immunization)-এর অধীনে পরিচালিত হয়। ইপিআই মূলত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে, যার অধীনে এইচপিভি টিকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:
এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (GAVI) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। GAVI, WHO এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে টিকার অর্থায়ন ও টেকনিক্যাল সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রথম এইচপিভি টিকা প্রয়োগ:
- বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম এইচপিভি টিকা চালু হয় ২০১৬ সালে।
- পরে, ২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে এই টিকা চালু করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ১০-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা।
শেষ কথাঃ
বাংলাদেশে এইচপিভি টিকা প্রথম চালু করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইপিআই কর্মসূচি। এর সফল বাস্তবায়নে WHO এবং GAVI-এর সহযোগিতায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এইচপিভি টিকা চালু করা হয়।
