কোলেস্টেরল কী?

কোলেস্টেরল কী?

কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের চর্বিযুক্ত পদার্থ, যা আমাদের শরীরে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং হরমোন ও ভিটামিন D উৎপাদনে অংশ নেয়। আমাদের লিভারে কিছুমাত্রায় কোলেস্টেরল  তৈরি করে, আর বাকিটা আসে খাবার থেকে। তবে সমস্যা হয় যখন ইহার মাত্রা শরীরে অতিরিক্ত হয়ে যায়।

### কোলেস্টেরল বাড়ার কারণ

কোলেস্টেরল বাড়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে, তবে কয়েকটি প্রধান কারণের দিকে নজর দেওয়া যাক:

1. ** অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস** 
আমরা যা খাই তার প্রভাব সরাসরি আমাদের কোলেস্টেরল মাত্রার উপর পড়ে। ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া খাবার, এবং চর্বিযুক্ত মাংস নিয়মিত খেলে শরীরে “খারাপ” (LDL) কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। এগুলোতে থাকা স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

2. ** অনিয়মিত জীবনযাপন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব** 
শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে, শরীরে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে “ভালো” (HDL) কোলেস্টেরল বাড়ে, যা খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করতে সাহায্য করে।

3. ** ওজন বৃদ্ধি** 
অতিরিক্ত ওজন কোলেস্টেরল বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরে বেশি ফ্যাট জমা হলে কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়তে থাকে।

4. **ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন** 
ধূমপান এবং অ্যালকোহল শরীরের কোলেস্টেরল ব্যালেন্সকে নষ্ট করে দেয়। ধূমপান করলে “ভালো” কোলেস্টেরল কমে যায়, যা খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করতে পারে না।

5. ** বংশগত কারণ** 
কখনও কখনও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির পেছনে জিনগত কারণও থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারো উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে আপনারও তা হতে পারে।

6. ** বয়স এবং লিঙ্গ** 
বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এছাড়াও, নারীদের মেনোপজের পর কোলেস্টেরল বাড়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

#### কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং ধূমপান বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। এছাড়াও, নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং রক্তের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।

কোলেস্টেরল বৃদ্ধির এই কারণগুলো জানলে আমরা আরও ভালোভাবে সচেতন হতে পারি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মনোযোগ দিতে পারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top